সোমবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

কেউ চাইলো না রূপলাল কে

 

সবাই অনেক কিছু চাইলো, কিন্তু কে কাহাকে পাইলো? আদৌ তারা যা চাইলো, তাহাও কি তা পাইতে পারিলো ? কেউ কেউ কিছু জিনিস পাইলো বটে, তবে কিছু মানুষ মনের মানুষ হইতে চাইয়াও হইতে পারলো না ।

কান্নায় শোক মন্দীভূত হয়, অথবা সময়ের সাথে সাথে ভেতরে থাকা কষ্ট টাও কমে যায়। কিন্তু সকল ক্ষেত্রে শেষ গল্প টা একরকম হয় না। কিছু কষ্ট ঘটনার সাথে সাথে অনুভব করা যায় না, সময়ের সাথে সাথে কষ্টের পরিমাণ টা বাড়তে থাকে।

শহরের এক সাধারণ ছেলে শারীরিক কিছু জটিলতার দরুণ গ্রামে গিয়ে তার পরিবারের সাথে ছিলো কিছু মাস, যাতে সে একটু খাবার এবং যত্ন পাইতে পারে। সময়ের সাথে সাথে সে কিছু টা সুস্থ হয়, পুরোপুরি না। এমন সময় তার প্রেমিকার জন্মদিন ঘনিয়ে আসে। তাই সে প্রেমিকার সাথে দেখা করার জন্য একদিন আগে শহরে চলে আসে। কিন্তু বাসায় ঢোকার আগ মুহুর্তে রাস্তা পার হবার সময় একটা গাড়ি এসে ধাক্কা দেয় তাকে। তেমন কিছু হয়না সেই ধাক্কায়। সে ৩ টি লাল গোলাপ কিনে বাসায় ঢুকে পড়ে। শরীরে  সামান্য ব্যথা থাকলেও তার মনে অনেক শান্তি ছিলো। সে ভাবতে থাকলো, তার প্রেমিকা তাকে এত মাস পরে সামনাসামনি দেখতে পেয়ে কতটা খুশি হবে। সে ভুলে ই গেলো, মানুষ যা আশা করে, খুব ই কম ক্ষেত্রে ই তা ঘটে। একটা সময় রাত হলো এবং সেই ছেলের অপেক্ষা শেষ হলো। সময়মতো সামান্য একটি ছবি দিয়ে সে তার প্রেমিকা কে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালো। অতঃপর প্রেমিকাকে তাহার প্রাক্তন কত ভালোভাবে শুভেচ্ছা জানালো, কোন অপরিচিত ছেলে, সেই ছেলের চেয়ে ভালোভাবে শুভেচ্ছা জানালো সেই গল্প শুনতে শুনতে ছেলের রাত পার হলো।

পরের দিন যখন ছেলে বহু মাস পর তার প্রেমিকার সাথে শুধু মাত্র তিনটি লাল গোলাপ আর এক কেক নিয়ে দেখা করতে গেলো, তখন সে প্রেমিকার কাছে  ভালোবাসা পাবার আশা নিয়ে গেলো। কিন্তু সে তার প্রেমিকার কাছে যা পেলো তা, অভিযোগ, অপমান, তাচ্ছিল্য আর তুলনার চেয়ে বেশি কিছু ছিলো না। ছেলের ভালোবাসার অভাব কিছু ছিলো না তার প্রেমিকার প্রতি। তবে অভাব ছিলো মোমবাতি, গিফট এবং চাহিদা পূরণ করার। খাওয়া দাওয়া হলো, কেক কাটা হলো কিন্তু শেষ অবধি কেউ খুশি হতে পারলো না। না ওই ছেলে , না তার প্রেমিকা। প্রেমিকা সেই ছেলের উপস্থিতি অথবা অনুপস্থিতি নিয়ে কিছুমাত্র চিন্তিত ছিলো না। দিনশেষে ছেলে টা যেখান থেকে এসেছিলো, পুনরায় সেখানে ফেরত চলে গেলো।


শনিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৯

২০১৯ সালে গুগলের যে সেবাগুলো বন্ধ হয়েছে

গুগলহয়তো নতুন কিছু এসে পুরোনো প্রযুক্তির জায়গা দখল করেছে। কিংবা ব্যবহারকারীরা আগ্রহ হারিয়েছেন। ঘটনা যা–ই হোক, এ বছর অন্তত ২৩টি পণ্য ও সেবা বন্ধ করে দিয়েছে গুগল। এগুলোর কোনোটির বয়স দু-তিন, আবার কোনোটির দশক পেরিয়েছে। ২০১৯ সালে গুগল বন্ধ করে দিয়েছে এমন আলোচিত ১০টি পণ্য ও সেবার কথা থাকছে এখানে।

 গুগল ইউআরএল শর্টনার (২০০৯–২০১৯):
২০০৯ সালে চালু হওয়া দীর্ঘ ওয়েব লিংক সংক্ষিপ্ত করে ভাগাভাগির সেবা ইউআরএল শর্টনার বন্ধ করেছে গুগল।

 গুগল প্লাস (২০১১–২০১৯): ২০১১ সালে গুগল এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম চালু করেছিল। ব্যবহারকারী আকর্ষণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় এই বছরের শুরুতে চূড়ান্তভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

গুগল অ্যালো (২০১৬–২০১৯): অ্যালো সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং অ্যাপটি গুগলের সবচেয়ে স্বল্পকালীন পণ্যগুলোর একটি। এর মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপের মতো তাৎক্ষণিক বার্তা আদান–প্রদানের সেবা দিতে চেয়েছিল গুগল।

ক্রোমকাস্ট অডিও (২০১৫–২০১৯): ক্রোমকাস্ট অডিও যন্ত্রটি এ বছরের শুরুর দিকে বাজারজাতকরণ বন্ধ করে দেয় গুগল। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা যেকোনো যন্ত্র থেকে অডিও ইনপুটসহ স্পিকারে অডিও স্ট্রিম করতে পারত।

ইউটিউব গেমিং (২০১৫–২০১৯): ইউটিউব গেমিংয়ের লক্ষ্য ছিল ব্যবহারকারীদের লাইভ এবং রেকর্ড হওয়া গেম প্রচারের স্বাদ দেওয়া। ব্যবহারকারীদের পর্যাপ্ত সাড়া না পাওয়ায় ব্যর্থ হওয়ায় এই বছরের গোড়ার দিকে বন্ধ হয়ে যায়।

ইনবক্স বাই জিমেইল (২০১৫–২০১৯): ২০১৫ সালে চালু হওয়া ‘ইনবক্স বাই জিমেইল’ অ্যাপটি জিমেইলের মতোই কাজ করত। মূলত নতুন সুবিধাগুলোর সম্ভাব্যতা যাচাই করার জন্য এটি চালু করা হয়েছিল। তবে এর বেশির ভাগই শেষ পর্যন্ত জিমেইল অ্যাপে যুক্ত করায় আলাদা অ্যাপের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যায়।

গুগল ডে-ড্রিম (২০১৬–২০১৯):গুগল ডে-ড্রিম চালু হওয়ার প্রায় তিন বছর পর এই বছরের শুরুর দিকে বন্ধ হয়ে যায়। এই ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটি প্ল্যাটফর্মটি নির্দিষ্ট অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসগুলোতে কাজ করত। তবে আলোড়ন সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়।

গুগল ক্লিপস (২০১৭–২০১৯): এটি মূলত অ্যাকশন ক্যামেরা ধাঁচের ডিভাইস। চালু হয়েছিল ২০১৭ সালে।

গুগল ট্রিপস (২০১৬–২০১৯): গুগল ট্রিপস একটি ভ্রমণবিষয়ক অ্যাপ, যার লক্ষ্য ছিল ব্যবহারকারীদের তাদের ভ্রমণের পরিকল্পনাগুলো আরও ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করতে সহায়তা করা।

ড্রাগনফ্লাই (২০১৮–২০১৯): চালু হওয়ার এক বছরের মধ্যে বন্ধ হয়ে হওয়া গুগলের ড্রাগনফ্লাই প্রকল্প মূলত চীনা ব্যবহারকারীদের জন্য নকশা করা গুগলের সার্চ ইঞ্জিন প্রকল্প। আলোর মুখ দেখার আগেই বন্ধ করা হয়।

এ বছর গুগলের আরও যেসব সেবা বন্ধ হয়েছে সেগুলো হলো অ্যারিও, ইউটিউব মেসেজেস, ব্লগ কম্পাস, গুগল ক্লাউড মেসেজিং, গুগল স্পটলাইট স্টোরিজ, গুগল জাম্প, জি স্যুট ট্রেইনিং, ফলো ইউর ওয়ার্ল্ড, ডেটালি, গুগল বুলেটিন, গুগল ফিউশন টেবিলস, গুগল ট্রান্সলেটর টুলকিট এবং গুগল কোরিলেট।

 সূত্র: গেজেটসনাউ

মস্তিষ্কের মতো মেমোরি যন্ত্র উদ্ভাবন


https://paloimages.prothom-alo.com/contents/cache/images/640x359x1/uploads/media/2019/12/28/a9b2660e3f5ccf2e3cb5d8f95847ee8a-5e06ead1be0e4.jpg 

মস্তিষ্কের মতো ডিভাইস। ছবি: ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স 

 মানুষের মস্তিষ্কে যেভাবে তথ্য সংরক্ষিত হয়, সেভাবেই মেমোরি যন্ত্রে তথ্য সংরক্ষণ করা যাবে। সম্প্রতি এমনই একটি যন্ত্র উদ্ভাবনে কাজ করেছে আন্তর্জাতিক গবেষকেদের একটি দল। জাপানের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ম্যাটেরিয়াল সায়েন্সের গবেষকেদের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক গবেষকেদের দলটি নিউরোমরফিক নেটওয়ার্ক ম্যাটেরিয়াল নিয়ে কাজ করছে। আইএএনএসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 
চিপ জায়ান্ট ইনটেলের তথ্য অনুযায়ী, নিউরো মরফিক কম্পিউটিং মানব মস্তিষ্কের নিউরাল স্ট্রাকচার এবং অপারেশন অনুকরণের সঙ্গে সম্পর্কিত।


গবেষকেরা বর্তমান কম্পিউটারগুলোতে ব্যবহৃত মূলধারার চেয়ে পৃথক নীতি ব্যবহার করে মেমরি ডিভাইসটি নকশার পরিকল্পনা করেছেন। তাঁরা আশা করছেন, তাঁদের এই গবেষণা মস্তিষ্কের তথ্য প্রক্রিয়াকরণ প্রক্রিয়া বোঝার ক্ষেত্রে সুবিধা হবে।
গবেষণাসংক্রান্ত নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টস’ সাময়িকীতে। গবেষকেরা বলছেন, তাঁরা অসংখ্য ধাতব ন্যানোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত নিউরোমরফিক নেটওয়ার্ক তৈরিতে সফল হয়েছেন। তাঁরা দাবি করেছেন, এ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে তাঁরা মানুষের মস্তিষ্কের মতোই বৈদ্যুতিক বৈশিষ্ট্য তৈরি করতে সক্ষম হন, যা মনে রাখা, শেখা, ভুলে যাওয়া, সতর্ক হয়ে ওঠা বা প্রশান্তি বজায় রাখার মতো বিষয়গুলো সম্পাদন করতে পারে।
গবেষকেরা বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স (এআই) পদ্ধতি দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে এবং আমাদের জীবনে নানা রকম প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। যদিও এআইয়ের তথ্য প্রক্রিয়াকরণ মানুষের মস্তিষ্কের অনুরূপ বলে ধরা হয়, তার পরও মানুষের মস্তিষ্ক কীভাবে পরিচালিত হয়, তার অনেক কিছুই এখনো অজানা।

তথ্যসূত্রঃ প্রথম-আলো

বৃহস্পতিবার, ৩ মার্চ, ২০১৬

পানি থেকে ডিজেল তৈরি



জার্মানির গাড়ি নির্মাতা অওডি সম্প্রতি অওডি ই-ডিজেল নামে পরিবেশবান্ধব কৃত্রিম জ্বালানি তৈরি শুরু করেছে। চমকপ্রদ খবর হচ্ছে, তাঁদের এই ডিজেলের কাঁচামাল হচ্ছে পানি। খবর এনডিটিভির।

অওডির গবেষকেরা বলছেন, তাঁদের এই প্রকল্পের মাধ্যমে কার্বন ডাই অক্সাইড নিরপেক্ষ জ্বালানি পাওয়া যাবে। জার্মানির ড্রেসডেন প্ল্যান্টে পানি থেকে ডিজেল তৈরির এই প্রকল্পের কাজ শুরু করেছে অডি। অওডি গাড়িতে পরিবেশবান্ধব এই জ্বালানি ব্যবহার করা যাবে।
ড্রেসডেনের এই কারখানায় পাওয়ার টু লিকুইড (পিটিএল) পদ্ধতিতে জ্বালানি তৈরি করা হচ্ছে। এই তরল জ্বালানি তৈরির প্রক্রিয়ায় পরিবেশবান্ধব শক্তি ব্যবহার করছে অওডি। এই পদ্ধতিতে কাঁচামাল হিসেবে শুধু পানি ও কার্বন ডাই অক্সাইড ব্যবহৃত হয়। একটি বায়োগ্যাস কারখানা থেকে অওডি এই কার্বন ডাই অক্সাইড সংগ্রহ করছে।



জালানী তৈরি হয় যেভাবে :
১. প্রথমে পানিকে তাপ দিয়ে বাষ্পীভূত করা হয় এবং উচ্চ তাপমাত্রায় পানিকে ভেঙে এর হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন আলাদা করা হয়।
২. এরপর আরও দুটি প্রক্রিয়া শেষে এই হাইড্রোজেনকে সিনথেসিস রিঅ্যাক্টরে উচ্চ তাপ ও চাপে বিক্রিয়া ঘটানো হয়। এতে হাইড্রোকার্বন যৌগ তৈরি হয় যাকে বলা হয় ব্লু ক্রুড। এই ব্লু ক্রুডকে রিফাইন করেই ই-ডিজেল উৎ​পন্ন হয় যা কৃত্রিম জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এই জ্বালানি সালফার ও অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বন মুক্ত।
ডিজেল ছাড়াও ই-গ্যাসোলিন নামে কৃত্রিম পেট্রোলও তৈরি করছে অওডি।

শুক্রবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৫

কোনো ব্যাটারি লাগে না নোফোন-এ


কোনো ব্যাটারি ছাড়াই ‘চলবে’ ফোন। ভাবছেন দাম কত হতে পারে? সে চিন্তাটি না করলেও চলবে। কারণ মডেলভেদে ফোনটির দাম মাত্র পাঁচ থেকে দশ ডলারের মধ্যে। দাম স্বল্প, ব্যাটারি ছাড়াই চলবে, তাহলে নিশ্চয় ফোনটিতে কোনো ঘাটতি রয়েছে, মনে এমন সন্দেহ জাগাটা অস্বাভাবিক নয়।

মজার বিষয় হল, সন্দেহটি সঠিক। ‘নোফোন’ নামের ওই ফোনে নেই কোনো ক্যামেরা, গান শোনার সুযোগ এমনকি প্রচলিত ফোনে যা যা রয়েছে তার কিছুই নেই এতে। এটি একটি প্লাস্টিকের টুকরো মাত্র যা শুধু গ্রাহকের মন থেকে স্মার্টফোনের অভাব দূর করার জন্যই তৈরি করা হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট সিনেট।

তবে ফোন না হলেও, ফোনের মতো করেই বিক্রি করা হয় ‘নোফোন’। আগ্রহীদের জন্য রয়েছে ‘নোফোন’-এর তিনটি মডেল। সম্পূর্ণ ফিচার ছাড়া অর্থাৎ শুধু ফোন আকৃতির যে প্লাস্টিকের টুকরো মডেলটি রয়েছে, সেটির নাম দেওয়া হয়েছে নোফোন জিরো, মূল্য পাঁচ ডলার।

এরপরেই রয়েছে দ্বিতীয় মডেল যার মূল্য দশ ডলার, গ্রাহকের মনকে স্বান্তনা দেওয়ার জন্য এতে ভুয়া বাটন এবং পোর্ট রাখা হয়েছে। আর যদি এতেও গ্রাহকের মনে স্বস্তি না আসে, তাহলে তিনি ফিচারসমৃদ্ধ মডেল ‘নোফোন সেলফি’ কিনতে পারেন। কারণ ওই ফোনটিতে স্ক্রিনের স্থানে রয়েছে কালো কাঁচ এবং ভুয়া বাটন ও পোর্ট।

তিনটি ফোনের ক্ষেত্রেই গ্যারান্টি দেওয়া হয়েছে যে এগুলো কোনো প্রকারের কাজই করবে না। পৃথিবীর আর কোনো গ্যারান্টি কাজ করুক আর নাই করুক, এই গ্যারান্টি যে কাজ করবে সে বিষয়ে সিনেট নিঃসন্দেহ বলেই মন্তব্য করেছে।

অন্যদিকে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে দাবি করা হয়েছে, তাদের ফোনটি হচ্ছে মানবপ্রজাতির তৈরি সবচেয়ে স্বল্পোন্নত ফোন। তবে ফোন কাজ না করলেও গ্রাহকের ব্যাপারে ‘নোফোন’ খুবই সতর্ক।


এ প্রসঙ্গে ‘নোফোন’-এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ভ্যান গুড নিজ ওয়েবপেইজে জানিয়েছেন, নোফোন-এর ওজন, আকার সব আসল ফোনের মতোই। গ্রাহক যাতে কোনোভাবেই মনে না করেন, তার সঙ্গে ফোন নেই, সেজন্যই এভাবে নোফোন ডিজাইন করা হয়েছে।
এখন পর্যন্ত নোফোন-এর মোট ৪০ হাজার ইউনিট বিক্রি হয়েছে বলেই জানিয়েছে সিনেট। ‘প্রযুক্তির এই যুগে এ ধরনের একটি ভুয়া ফোনের আসলেই খুব দরকার ছিল। কারণ পরিবারের সবাই একসঙ্গে কোথাও খেতে গেলেও, দেখা যায় সবাই সবার ফোনের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন।’

আর তাই হয়তো নোফোন-এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সহ-প্রতিষ্ঠাতা গুড বলেছেন, “এটি অবশ্যই একটি কৌতুক, কিন্তু এই কৌতুকের পেছনে ভয়াবহ একটি সত্যি লুকিয়ে আছে।”

২০১৪ সালে এক কিকস্টার্টার তহবিলের মাধ্যমে ১৮ হাজার ডলার তহবিল সংগ্রহ করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ‘নোফোন’।

ঠাট্টার ছলে গুড অবশ্য মার্কিন টেক জায়ান্ট অ্যাপল-কেও একচোট নিয়েছেন। “আমি ঠিক নিশ্চিত নই যে আমরা পরবর্তী অ্যাপল হতে পারব কিনা। কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভুয়া ফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানতো আমরাই।"


ফাইটার জেটে লেজার গান


শুনতে সায়েন্স-ফিকশন সিনেমার গল্পের মতো মনে হতেও পারে পাঠকের, কিন্তু ২০২০ সাল নাগাদ ফাইটার প্লেনে লেজার গান বসানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে মার্কিন বিমান বাহিনী।


বড় আকারের বিমানগুলোতে লেজার গান বসানোর প্রযুক্তি মার্কিন বিমান বাহিনীর হাতে আছে আগে থেকেই। কিন্তু ফাইটার জেটের মতো ছোট আকারের বিমানের জন্য ছোট কিন্তু শক্তিশালী এবং লক্ষ্যে নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম লেজার গান একটা ‘বড় চ্যালেঞ্জ’ হয়েই ছিল মার্কিন বাহিনীর জন্য।

প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে সেই দৃশ্যপটের পরিবর্তন এসেছে বলে জানিয়েছেন ইউএস এয়ার ফোর্স রিসার্চ ল্যাবরেটরি (এএফআরএল)-এর চিফ ইঞ্জিনিয়ার কেলি হ্যামেট। “আমরা এই প্রযুক্তিকে পরিবর্তিত হয়ে এমন একটি পর্যায়ে আসতে দেখছি যেখান থেকে এর কার্যকর ব্যবহার সম্ভব।”

শুধু ফাইটার জেটের জন্য লেজার গান বানিয়ে ক্ষান্ত হচ্ছে না এএফআরএল। সিএনএন জানিয়েছে, মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলোর জন্য ৩৬০-ডিগ্রির ‘লেজার শিল্ড’ ব্যবহারের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে তারা। মিসাইল বা শত্রু বিমান আকাশেই ঠেকিয়ে দিতে পারবে ওই লেজার শিল্ড।

নতুন লেজার গানগুলোর কার্যক্ষমতা চতুর্থ প্রজন্মের ফাইটার জেট হিসেবে পরিচিত এফ-১৫ ফাইটার প্লেনের মাধ্যম পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন হ্যামেট। আগামী দুই-এক বছরের মধ্যে এই প্রযুক্তির একটি সফল প্রোটোটাইপ দেখার আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

লেজার গান প্রযুক্তি নিয়ে কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই কাজ করছে এমনটা নয়। আরও কয়েকটি দেশ একই প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করছে বলে নিশ্চিত করেছেন হ্যামেট। তবে ওই দেশগুলোর নাম প্রকাশ করেননি তিনি।

নাসার মঙ্গল অভিযান স্থগিত


যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যান্ডেনবার্গ এয়ার ফোর্স বেইস থেকে মঙ্গলে ‘ইনসাইট’ নামের নতুন যান পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে স্থগিত করা হয়েছে ওই অভিযান।


মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, মঙ্গলপৃষ্ঠ ও বায়ুমণ্ডল বিশ্লেষণের পাশাপাশি রঙিন ছবি তোলার কথা ছিল ইনসাইটের। ২০১৬ সালের মার্চে যাত্রা শুরু করে সেপ্টেম্বরে মঙ্গলে পৌঁছানোর কথা ছিল যানটির।  

মঙ্গলের মাটির নড়াচড়া মাপতে বানানো সিসমোমিটারে ত্রুটি পাওয়ায় স্থগিত করা হয়েছে ইনসাইটের মিশন। একটি পরমাণুর ব্যাসের সমান কণার নড়াচড়াও চিহ্নিত করতে পারতো ওই সিসমোমিটার। ফ্রান্সের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা সিএনইএস যন্ত্রটি সরবরাহ করেছিল।

মঙ্গলের বিরুপ আবহাওয়া থেকে যন্ত্রটির তিনটি প্রধান সেন্সরকে রক্ষা করতে এটি বায়ুশূন্য অবস্থায় রাখতে হয়। আর প্রচণ্ড ঠান্ডা আবহাওয়ায় বায়ুশূন্য অবস্থায় কাজ করার পরীক্ষাতেই বেঁকে বসে সিসমোমিটারটি।

আর ওই একটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই পুরো মিশন স্থগিত হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন জেট প্রোপালশন ল্যাবরেটরি-এর ইনসাইটের প্রধান তদন্তকারী ব্রুস ব্যানার্ডট।

এই সমস্যা সমাধানের পর খুব শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করার সম্ভাবনাও নাকচ করে দিয়েছেন তিনি, অপেক্ষা করতে হবে ২০১৮ সাল পর্যন্ত। “অভিযানের অন্য সবকিছু ঠিক আছে, আর ২০১৮ সালে পরবর্তী সুযোগে মঙ্গল অভিযানের সম্ভাবনা নিয়ে আমরা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি।”—যোগ করেন তিনি।