শনিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৯

২০১৯ সালে গুগলের যে সেবাগুলো বন্ধ হয়েছে

গুগলহয়তো নতুন কিছু এসে পুরোনো প্রযুক্তির জায়গা দখল করেছে। কিংবা ব্যবহারকারীরা আগ্রহ হারিয়েছেন। ঘটনা যা–ই হোক, এ বছর অন্তত ২৩টি পণ্য ও সেবা বন্ধ করে দিয়েছে গুগল। এগুলোর কোনোটির বয়স দু-তিন, আবার কোনোটির দশক পেরিয়েছে। ২০১৯ সালে গুগল বন্ধ করে দিয়েছে এমন আলোচিত ১০টি পণ্য ও সেবার কথা থাকছে এখানে।

 গুগল ইউআরএল শর্টনার (২০০৯–২০১৯):
২০০৯ সালে চালু হওয়া দীর্ঘ ওয়েব লিংক সংক্ষিপ্ত করে ভাগাভাগির সেবা ইউআরএল শর্টনার বন্ধ করেছে গুগল।

 গুগল প্লাস (২০১১–২০১৯): ২০১১ সালে গুগল এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম চালু করেছিল। ব্যবহারকারী আকর্ষণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় এই বছরের শুরুতে চূড়ান্তভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

গুগল অ্যালো (২০১৬–২০১৯): অ্যালো সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং অ্যাপটি গুগলের সবচেয়ে স্বল্পকালীন পণ্যগুলোর একটি। এর মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপের মতো তাৎক্ষণিক বার্তা আদান–প্রদানের সেবা দিতে চেয়েছিল গুগল।

ক্রোমকাস্ট অডিও (২০১৫–২০১৯): ক্রোমকাস্ট অডিও যন্ত্রটি এ বছরের শুরুর দিকে বাজারজাতকরণ বন্ধ করে দেয় গুগল। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা যেকোনো যন্ত্র থেকে অডিও ইনপুটসহ স্পিকারে অডিও স্ট্রিম করতে পারত।

ইউটিউব গেমিং (২০১৫–২০১৯): ইউটিউব গেমিংয়ের লক্ষ্য ছিল ব্যবহারকারীদের লাইভ এবং রেকর্ড হওয়া গেম প্রচারের স্বাদ দেওয়া। ব্যবহারকারীদের পর্যাপ্ত সাড়া না পাওয়ায় ব্যর্থ হওয়ায় এই বছরের গোড়ার দিকে বন্ধ হয়ে যায়।

ইনবক্স বাই জিমেইল (২০১৫–২০১৯): ২০১৫ সালে চালু হওয়া ‘ইনবক্স বাই জিমেইল’ অ্যাপটি জিমেইলের মতোই কাজ করত। মূলত নতুন সুবিধাগুলোর সম্ভাব্যতা যাচাই করার জন্য এটি চালু করা হয়েছিল। তবে এর বেশির ভাগই শেষ পর্যন্ত জিমেইল অ্যাপে যুক্ত করায় আলাদা অ্যাপের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যায়।

গুগল ডে-ড্রিম (২০১৬–২০১৯):গুগল ডে-ড্রিম চালু হওয়ার প্রায় তিন বছর পর এই বছরের শুরুর দিকে বন্ধ হয়ে যায়। এই ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটি প্ল্যাটফর্মটি নির্দিষ্ট অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসগুলোতে কাজ করত। তবে আলোড়ন সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়।

গুগল ক্লিপস (২০১৭–২০১৯): এটি মূলত অ্যাকশন ক্যামেরা ধাঁচের ডিভাইস। চালু হয়েছিল ২০১৭ সালে।

গুগল ট্রিপস (২০১৬–২০১৯): গুগল ট্রিপস একটি ভ্রমণবিষয়ক অ্যাপ, যার লক্ষ্য ছিল ব্যবহারকারীদের তাদের ভ্রমণের পরিকল্পনাগুলো আরও ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করতে সহায়তা করা।

ড্রাগনফ্লাই (২০১৮–২০১৯): চালু হওয়ার এক বছরের মধ্যে বন্ধ হয়ে হওয়া গুগলের ড্রাগনফ্লাই প্রকল্প মূলত চীনা ব্যবহারকারীদের জন্য নকশা করা গুগলের সার্চ ইঞ্জিন প্রকল্প। আলোর মুখ দেখার আগেই বন্ধ করা হয়।

এ বছর গুগলের আরও যেসব সেবা বন্ধ হয়েছে সেগুলো হলো অ্যারিও, ইউটিউব মেসেজেস, ব্লগ কম্পাস, গুগল ক্লাউড মেসেজিং, গুগল স্পটলাইট স্টোরিজ, গুগল জাম্প, জি স্যুট ট্রেইনিং, ফলো ইউর ওয়ার্ল্ড, ডেটালি, গুগল বুলেটিন, গুগল ফিউশন টেবিলস, গুগল ট্রান্সলেটর টুলকিট এবং গুগল কোরিলেট।

 সূত্র: গেজেটসনাউ

মস্তিষ্কের মতো মেমোরি যন্ত্র উদ্ভাবন


https://paloimages.prothom-alo.com/contents/cache/images/640x359x1/uploads/media/2019/12/28/a9b2660e3f5ccf2e3cb5d8f95847ee8a-5e06ead1be0e4.jpg 

মস্তিষ্কের মতো ডিভাইস। ছবি: ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স 

 মানুষের মস্তিষ্কে যেভাবে তথ্য সংরক্ষিত হয়, সেভাবেই মেমোরি যন্ত্রে তথ্য সংরক্ষণ করা যাবে। সম্প্রতি এমনই একটি যন্ত্র উদ্ভাবনে কাজ করেছে আন্তর্জাতিক গবেষকেদের একটি দল। জাপানের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ম্যাটেরিয়াল সায়েন্সের গবেষকেদের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক গবেষকেদের দলটি নিউরোমরফিক নেটওয়ার্ক ম্যাটেরিয়াল নিয়ে কাজ করছে। আইএএনএসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 
চিপ জায়ান্ট ইনটেলের তথ্য অনুযায়ী, নিউরো মরফিক কম্পিউটিং মানব মস্তিষ্কের নিউরাল স্ট্রাকচার এবং অপারেশন অনুকরণের সঙ্গে সম্পর্কিত।


গবেষকেরা বর্তমান কম্পিউটারগুলোতে ব্যবহৃত মূলধারার চেয়ে পৃথক নীতি ব্যবহার করে মেমরি ডিভাইসটি নকশার পরিকল্পনা করেছেন। তাঁরা আশা করছেন, তাঁদের এই গবেষণা মস্তিষ্কের তথ্য প্রক্রিয়াকরণ প্রক্রিয়া বোঝার ক্ষেত্রে সুবিধা হবে।
গবেষণাসংক্রান্ত নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টস’ সাময়িকীতে। গবেষকেরা বলছেন, তাঁরা অসংখ্য ধাতব ন্যানোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত নিউরোমরফিক নেটওয়ার্ক তৈরিতে সফল হয়েছেন। তাঁরা দাবি করেছেন, এ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে তাঁরা মানুষের মস্তিষ্কের মতোই বৈদ্যুতিক বৈশিষ্ট্য তৈরি করতে সক্ষম হন, যা মনে রাখা, শেখা, ভুলে যাওয়া, সতর্ক হয়ে ওঠা বা প্রশান্তি বজায় রাখার মতো বিষয়গুলো সম্পাদন করতে পারে।
গবেষকেরা বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স (এআই) পদ্ধতি দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে এবং আমাদের জীবনে নানা রকম প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। যদিও এআইয়ের তথ্য প্রক্রিয়াকরণ মানুষের মস্তিষ্কের অনুরূপ বলে ধরা হয়, তার পরও মানুষের মস্তিষ্ক কীভাবে পরিচালিত হয়, তার অনেক কিছুই এখনো অজানা।

তথ্যসূত্রঃ প্রথম-আলো