শুক্রবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৫

কোনো ব্যাটারি লাগে না নোফোন-এ


কোনো ব্যাটারি ছাড়াই ‘চলবে’ ফোন। ভাবছেন দাম কত হতে পারে? সে চিন্তাটি না করলেও চলবে। কারণ মডেলভেদে ফোনটির দাম মাত্র পাঁচ থেকে দশ ডলারের মধ্যে। দাম স্বল্প, ব্যাটারি ছাড়াই চলবে, তাহলে নিশ্চয় ফোনটিতে কোনো ঘাটতি রয়েছে, মনে এমন সন্দেহ জাগাটা অস্বাভাবিক নয়।

মজার বিষয় হল, সন্দেহটি সঠিক। ‘নোফোন’ নামের ওই ফোনে নেই কোনো ক্যামেরা, গান শোনার সুযোগ এমনকি প্রচলিত ফোনে যা যা রয়েছে তার কিছুই নেই এতে। এটি একটি প্লাস্টিকের টুকরো মাত্র যা শুধু গ্রাহকের মন থেকে স্মার্টফোনের অভাব দূর করার জন্যই তৈরি করা হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট সিনেট।

তবে ফোন না হলেও, ফোনের মতো করেই বিক্রি করা হয় ‘নোফোন’। আগ্রহীদের জন্য রয়েছে ‘নোফোন’-এর তিনটি মডেল। সম্পূর্ণ ফিচার ছাড়া অর্থাৎ শুধু ফোন আকৃতির যে প্লাস্টিকের টুকরো মডেলটি রয়েছে, সেটির নাম দেওয়া হয়েছে নোফোন জিরো, মূল্য পাঁচ ডলার।

এরপরেই রয়েছে দ্বিতীয় মডেল যার মূল্য দশ ডলার, গ্রাহকের মনকে স্বান্তনা দেওয়ার জন্য এতে ভুয়া বাটন এবং পোর্ট রাখা হয়েছে। আর যদি এতেও গ্রাহকের মনে স্বস্তি না আসে, তাহলে তিনি ফিচারসমৃদ্ধ মডেল ‘নোফোন সেলফি’ কিনতে পারেন। কারণ ওই ফোনটিতে স্ক্রিনের স্থানে রয়েছে কালো কাঁচ এবং ভুয়া বাটন ও পোর্ট।

তিনটি ফোনের ক্ষেত্রেই গ্যারান্টি দেওয়া হয়েছে যে এগুলো কোনো প্রকারের কাজই করবে না। পৃথিবীর আর কোনো গ্যারান্টি কাজ করুক আর নাই করুক, এই গ্যারান্টি যে কাজ করবে সে বিষয়ে সিনেট নিঃসন্দেহ বলেই মন্তব্য করেছে।

অন্যদিকে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে দাবি করা হয়েছে, তাদের ফোনটি হচ্ছে মানবপ্রজাতির তৈরি সবচেয়ে স্বল্পোন্নত ফোন। তবে ফোন কাজ না করলেও গ্রাহকের ব্যাপারে ‘নোফোন’ খুবই সতর্ক।


এ প্রসঙ্গে ‘নোফোন’-এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ভ্যান গুড নিজ ওয়েবপেইজে জানিয়েছেন, নোফোন-এর ওজন, আকার সব আসল ফোনের মতোই। গ্রাহক যাতে কোনোভাবেই মনে না করেন, তার সঙ্গে ফোন নেই, সেজন্যই এভাবে নোফোন ডিজাইন করা হয়েছে।
এখন পর্যন্ত নোফোন-এর মোট ৪০ হাজার ইউনিট বিক্রি হয়েছে বলেই জানিয়েছে সিনেট। ‘প্রযুক্তির এই যুগে এ ধরনের একটি ভুয়া ফোনের আসলেই খুব দরকার ছিল। কারণ পরিবারের সবাই একসঙ্গে কোথাও খেতে গেলেও, দেখা যায় সবাই সবার ফোনের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন।’

আর তাই হয়তো নোফোন-এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সহ-প্রতিষ্ঠাতা গুড বলেছেন, “এটি অবশ্যই একটি কৌতুক, কিন্তু এই কৌতুকের পেছনে ভয়াবহ একটি সত্যি লুকিয়ে আছে।”

২০১৪ সালে এক কিকস্টার্টার তহবিলের মাধ্যমে ১৮ হাজার ডলার তহবিল সংগ্রহ করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ‘নোফোন’।

ঠাট্টার ছলে গুড অবশ্য মার্কিন টেক জায়ান্ট অ্যাপল-কেও একচোট নিয়েছেন। “আমি ঠিক নিশ্চিত নই যে আমরা পরবর্তী অ্যাপল হতে পারব কিনা। কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভুয়া ফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানতো আমরাই।"


ফাইটার জেটে লেজার গান


শুনতে সায়েন্স-ফিকশন সিনেমার গল্পের মতো মনে হতেও পারে পাঠকের, কিন্তু ২০২০ সাল নাগাদ ফাইটার প্লেনে লেজার গান বসানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে মার্কিন বিমান বাহিনী।


বড় আকারের বিমানগুলোতে লেজার গান বসানোর প্রযুক্তি মার্কিন বিমান বাহিনীর হাতে আছে আগে থেকেই। কিন্তু ফাইটার জেটের মতো ছোট আকারের বিমানের জন্য ছোট কিন্তু শক্তিশালী এবং লক্ষ্যে নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম লেজার গান একটা ‘বড় চ্যালেঞ্জ’ হয়েই ছিল মার্কিন বাহিনীর জন্য।

প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে সেই দৃশ্যপটের পরিবর্তন এসেছে বলে জানিয়েছেন ইউএস এয়ার ফোর্স রিসার্চ ল্যাবরেটরি (এএফআরএল)-এর চিফ ইঞ্জিনিয়ার কেলি হ্যামেট। “আমরা এই প্রযুক্তিকে পরিবর্তিত হয়ে এমন একটি পর্যায়ে আসতে দেখছি যেখান থেকে এর কার্যকর ব্যবহার সম্ভব।”

শুধু ফাইটার জেটের জন্য লেজার গান বানিয়ে ক্ষান্ত হচ্ছে না এএফআরএল। সিএনএন জানিয়েছে, মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলোর জন্য ৩৬০-ডিগ্রির ‘লেজার শিল্ড’ ব্যবহারের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে তারা। মিসাইল বা শত্রু বিমান আকাশেই ঠেকিয়ে দিতে পারবে ওই লেজার শিল্ড।

নতুন লেজার গানগুলোর কার্যক্ষমতা চতুর্থ প্রজন্মের ফাইটার জেট হিসেবে পরিচিত এফ-১৫ ফাইটার প্লেনের মাধ্যম পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন হ্যামেট। আগামী দুই-এক বছরের মধ্যে এই প্রযুক্তির একটি সফল প্রোটোটাইপ দেখার আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

লেজার গান প্রযুক্তি নিয়ে কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই কাজ করছে এমনটা নয়। আরও কয়েকটি দেশ একই প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করছে বলে নিশ্চিত করেছেন হ্যামেট। তবে ওই দেশগুলোর নাম প্রকাশ করেননি তিনি।

নাসার মঙ্গল অভিযান স্থগিত


যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যান্ডেনবার্গ এয়ার ফোর্স বেইস থেকে মঙ্গলে ‘ইনসাইট’ নামের নতুন যান পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে স্থগিত করা হয়েছে ওই অভিযান।


মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, মঙ্গলপৃষ্ঠ ও বায়ুমণ্ডল বিশ্লেষণের পাশাপাশি রঙিন ছবি তোলার কথা ছিল ইনসাইটের। ২০১৬ সালের মার্চে যাত্রা শুরু করে সেপ্টেম্বরে মঙ্গলে পৌঁছানোর কথা ছিল যানটির।  

মঙ্গলের মাটির নড়াচড়া মাপতে বানানো সিসমোমিটারে ত্রুটি পাওয়ায় স্থগিত করা হয়েছে ইনসাইটের মিশন। একটি পরমাণুর ব্যাসের সমান কণার নড়াচড়াও চিহ্নিত করতে পারতো ওই সিসমোমিটার। ফ্রান্সের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা সিএনইএস যন্ত্রটি সরবরাহ করেছিল।

মঙ্গলের বিরুপ আবহাওয়া থেকে যন্ত্রটির তিনটি প্রধান সেন্সরকে রক্ষা করতে এটি বায়ুশূন্য অবস্থায় রাখতে হয়। আর প্রচণ্ড ঠান্ডা আবহাওয়ায় বায়ুশূন্য অবস্থায় কাজ করার পরীক্ষাতেই বেঁকে বসে সিসমোমিটারটি।

আর ওই একটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই পুরো মিশন স্থগিত হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন জেট প্রোপালশন ল্যাবরেটরি-এর ইনসাইটের প্রধান তদন্তকারী ব্রুস ব্যানার্ডট।

এই সমস্যা সমাধানের পর খুব শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করার সম্ভাবনাও নাকচ করে দিয়েছেন তিনি, অপেক্ষা করতে হবে ২০১৮ সাল পর্যন্ত। “অভিযানের অন্য সবকিছু ঠিক আছে, আর ২০১৮ সালে পরবর্তী সুযোগে মঙ্গল অভিযানের সম্ভাবনা নিয়ে আমরা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি।”—যোগ করেন তিনি।

আকাশে উড়বে আর২-ডি২

স্টার ওয়ার্স ভক্তদের সঙ্গে আর২-ডি২ (R2-D2)-কে নতুন করে আর পরিচয় করিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে ছোট ওই রোবটটির আদলে নতুন যে ড্রোনটি তৈরি করা হয়েছে, তার পরিচয় করিয়ে দিলে মন্দ হয়না। কারণ, সাই-ফাই ড্রয়েডের আদলে তৈরি বিশ্বের প্রথম কোয়াডকপ্টার ড্রোন এটি।


এক প্রতিবেদনে প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট সিনেট জানিয়েছে, এর আগেও স্টার ওয়ার্স-কে কেন্দ্র করে নানা ধরনের ড্রোন তৈরি করা হয়েছে। সেসবের মধ্যে রয়েছে এক্স-উইং, ইম্পেরিয়াল স্টার ডেস্ট্রোয়ার, মিলেনিয়াম ফ্যালকন ইত্যাদি।

আর এবার তৈরি হয়েছে আর২-ডি২ কোয়াডকপ্টার ড্রোন। ড্রোনটির একটি ডাক নামও রয়েছে, ‘আর্টুরো’। ড্রোনটির নির্মাতা হচ্ছেন ডন মেলারা নামের এক ইউটিউবার ও স্টার ওয়ার্স ভক্ত।

ড্রোন তৈরির সময় মেলারা আর২-ডি২-এর চোখের জায়গায় ক্যামেরার পাশাপাশি এলইডি জেটপ্যাক, স্পিকার বক্স এবং চীনের প্রযুক্তি পন্য নির্মাতা ডিজিআই-এর জিপিএস যুক্ত করেছেন। ডিজিআই জিপিএস যুক্ত করার ফলে ড্রোনটি ‘অটোপাইলট নেভিগেশন সিস্টেম’-এ চলতে পারে বলে জানিয়েছে সিনেট।

আর২-ডি২ কোয়াডকপ্টার ড্রোন নির্মান প্রসঙ্গে মেলারা নিজ ইউটিউব পেইজে লিখেছেন, “ড্রোন তৈরি করতে আমার মোট আটদিন সময় লেগেছে। আমার ছোটবেলার স্বপ্ন ছিল কেউ না কেউ কোনো একদিন আমাদের প্রিয় স্টার ওয়ার্স ড্রয়েডের একটি উড়ন্ত সংস্করণ তৈরি করবে। বর্তমান প্রযুক্তি ও এই বিষয়ে আগ্রহ থাকায় স্বপ্নটি এখন বাস্তবে পরিণত করা সম্ভব হয়েছে।”

কীভাবে সাধারণ একটি খেলনা আর২-ডি২ ড্রোনে পরিণত করা হল, সে বিষয়ে একটি ভিডিও তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন মেলারা। এর মধ্যেই অবশ্য ইউটিউবে আর্টুরোর আকাশে উড়ার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন তিনি।

বুধবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৫

জাদুকরি হলোলেন্স

                                   


শীত এখনো জাঁকিয়ে বসেনি বটে, তবে ডিসেম্বরের এই ফুরফুরে হাওয়াই বলে দিচ্ছে বছরটার শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে আমরা। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির সমাবর্তনে স্টিভ জবস যেমন বলেছিলেন, বর্তমানে দাঁড়িয়ে শুধু অতীতের ঘটনার বিন্দুগুলোকে এক সুতোয় বাঁধা যায়, ভবিষ্যতের যায় না।
২০১৫ সালে অনেক নতুন প্রযুক্তি মানুষের জীবনকে বদলে দিয়েছে, দিচ্ছে, আগামী দিনগুলোতেও এই ধারা চলতে থাকবে। তবে এ বছরের যুগান্তকারী আবিষ্কারটা বোধ হয় মাইক্রোসফটের হলোলেন্স। টাইম সাময়িকীর তালিকার শুরুটাও হয়েছে এই হেডসেট দিয়েই।
ভার্চুয়াল রিয়ালিটি নিয়েই কাজ করেছে মাইক্রোসফট। বাস্তব আর অবাস্তবকে এক করাই হলোলেন্সের কাজ। আপনার পারিপার্শ্বিক পরিবেশেই হলোলেন্স চোখে পরে নতুন কিছু দেখা যাবে, নতুন কিছু করার সুযোগ পাওয়া যাবে । মোটামুটি সব ধরনের মানুষেরই কাজে আসবে এই হেডসেট। বিশেষ করে নতুন কিছু তৈরি করে হাতে পাওয়ার আগেই সিমুলেশনের মাধ্যমে কার্যকারিতা দেখে নিতে সাহায্য করবে এই হেডসেট।
 তথ্য ও ছবি: মাইক্রোসফট                    


সোমবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০১৫

চলন্ত গাড়ি হ্যাক




ইন্টারনেট সংযোগ সুবিধার চলন্ত গাড়ি হ্যাক করে দূর থেকে তার নিয়ন্ত্রণ নেওয়া সম্ভব। দুজন সাইবার নিরাপত্তা গবেষক সম্প্রতি তা করে দেখিয়েছেন। চালু অবস্থায় ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করে গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ করে দেওয়ার নিয়ন্ত্রিত এই পরীক্ষা সফল হওয়ায়, ইন্টারনেট সংযোগ সুবিধার গাড়ির নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।
প্রযুক্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট উইয়ার্ড ডটকমের এক প্রতিবেদকের গাড়ি হাইওয়েতে চলা অবস্থায় তা পরীক্ষামূলকভাবে হ্যাক করে দেখান যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক হ্যাকার শার্লি মিলার ও আইওঅ্যাকটিভ নামের সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের গবেষক ক্রিস ভ্যালাসেক। তাঁরা ফিয়াট ক্রিসলার টেলিমেটিকস সিস্টেম ইউকানেক্ট ফিচারটি ব্যবহার করে এ পরীক্ষা চালান। পরীক্ষার সময় গাড়ির চেরোকি রেডিও সিস্টেমটি চালু করেন এবং গাড়ির অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় ফিচার সক্রিয় করার আগে তারা এন্টারটেইনমেন্ট সিস্টেমের হার্ডওয়্যার কোড রিরাইট করেন। এর মাধ্যমে গাড়ির স্টিয়ারিং, ব্রেক ও ইঞ্জিনের অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কে কমান্ড পাঠান।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে মিলনার বলেন, ‘হ্যাক হওয়ার ঝুঁকিতে লাখো গাড়ি এই মুহূর্তে রাস্তায় চলাচল করছে।’
ইতালির গাড়ি নির্মাতা ফিয়াট ক্রিসলার জানিয়েছে, তাদের গাড়িতে যে বাগ বা সফটওয়্যার ত্রুটি ধরা পড়েছে তার জন্য নিরাপত্তা প্যাঁচ উন্মুক্ত করেছে। কোম্পানির ওয়েবসাইট থেকে বিনা মূল্যে তা হালনাগাদ করে নেওয়া যাবে।
ফিয়াট কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, স্মার্টফোন কিংবা ট্যাবলেটের মতো উন্নত নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য গাড়ির সফটওয়্যারও হালনাগাদ করা প্রয়োজন। এতে গাড়ির সিস্টেমে অনাকাঙ্ক্ষিত হ্যাকের ঝুঁকি এড়ানো যাবে।
গাড়ির নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করছেন মিলার ও ভ্যালাসেক। মিলার ও ভ্যালাসেক বলেন, গত বছরের অক্টোবর মাস থেকে তাঁরা ইতালির গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে কাজ করছেন। তাঁরা গাড়ির জন্য নিরাপত্তা প্যাঁচ তৈরিতে কাজ করেছেন।

আগস্টে অনুষ্ঠিতব্য ডেফ কন সিকিউরিটি সম্মেলনে তাঁরা এ সংক্রান্ত নিবন্ধ উপস্থাপন করার পরিকল্পনা করেছেন। তাঁদের দাবি, গাড়ির এন্টারটেইনমেন্ট সিস্টেম হ্যাক করার পর সেখান থেকে গাড়ির মূল নেটওয়ার্কে হামলা করার পদ্ধতিটি জটিল। তবে দীর্ঘদিন ধরে লেগে থাকলে তা হ্যাক করে ফেলা সম্ভব।
গবেষকেদের দাবি, ইন্টারনেট সংযোগ সুবিধার গাড়ি নির্মাতাদের নিরাপদ গাড়ি তৈরিতে আরও পরিশ্রম করতে হবে এবং সফটওয়্যার হালনাগাদ রাখতে হবে।

বাজারে কোর আই থ্রি প্রসেসরের এইচপি ব্র্যান্ড পিসি

                                                (এইচ পি কোর আই থ্রি ব্রান্ড পিসি)

সম্প্রতি বাজারে এসেছে এইচপি ২৮০ জি১ এমটি মডেলের ব্র্যান্ড পিসি। এতে রয়েছে ইনটেলের চতুর্থ প্রজন্মের ৪১৭০ মডেলের কোর আই থ্রি প্রসেসর। এই পিসিতে আরও রয়েছে ইনটেল ৮১ চিপসেট, ৪ জিবি ডিডিআরথ্রি র‍্যাম, ৫০০ জিবি সাটা হার্ডড্রাইভ, ডিভিডি রাইটার।
বাজারে এইচপির এই ব্র্যান্ড পিসি বিপণন করছে স্মার্ট টেকনোলজিস।
প্রতিষ্ঠানটির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এইচপি ২৮০ জি১ এমটি মডেলের পিসিটির সঙ্গে রয়েছে সাড়ে ১৮ ইঞ্চি মাপের মনিটর, এইচপি ইউএসবি কীবোর্ড, এইচপি ইউএসবি মাউস, ফ্রি ডস এবং প্যারালাল পোর্ট।
পিসিটির সঙ্গে তিন বছরের বিক্রয়োত্তর সেবা দেবে বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানটি। পিসির দাম পড়বে ৩৮ হাজার টাকা

রবিবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০১৫

মোবাইল ফোন ব্যবহারের ১০টি স্বাস্থ্য ঝুঁকি



বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন বা মুঠোফোন আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। সকাল থেকে রাত-এটি এখন আমাদের সার্বক্ষণিক সঙ্গী।

মোবাইল ফোন যেমন বিভিন্ন দিক দিয়ে আমাদের উপকার করছে, একইভাবে স্বাস্থ্যগতভাবে আমাদের নানাদিক দিয়ে ঝুঁকির মুখোমুখি করছে। চলুন জেনে নেয়া যাক অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারের ফলে স্রিষ্ট ১০ স্বাস্থ্যঝুঁকি।

(১) অমনোযোগিতা

গবেষকরা দেখেছেন, বেশিরভাগ মানুষই প্রয়োজন না থাকলেও তাদের মোবাইলের মেনু স্ক্রিন, ই-মেইল বা এপ্লিকেশন চেক করার জন্য বার বার ফোন চেক করে। যদিও নতুন কোন ইমেইল, এস এম এস কিংবা নোটিফিকেশন আসার সম্ভাবনা হয়তো থাকে না বললেই চলে।

এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, যারা সারাক্ষণ তাদের ফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, তারা যে কোন জরুরী পরিস্থিতিতে অন্যদের তুলনায় ২৩% দেরিতে সক্রিয় হন। যে কারণে বিশ্বের বহু দেশে গাড়ি চালানো অবস্থায় মোবাইল ফোনে কথা বলা আইনত নিষিদ্ধ। বেশিরভাগ সময় দেখা যায়, মোবাইল ফোন আমাদের কোন কাজের প্রতি একাগ্রতা নষ্ট করে দেয়। এর ফলে যে কোন কাজ করতে আমাদের স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগে।

(২) সাধারণ অসুস্থতা

আপনার মোবাইল ফোনের কারণেও কিন্তু আপনি অসুস্থ হতে পারেন! কিভাবে? আপনি সারাক্ষণই আপনার প্রিয় ফোনটি নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। এতে ধূলোবালি তো জমা হয়ই, সাথে থাকে অনেক রোগ-জীবাণুও। খাবার সময় হলে আপনি হয়তো খুব ভালভাবে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে আসলেন। খাবার খাওয়ার ঠিক আগ মূহুর্তে আপনার ফোন বেজে উঠলো কিংবা একটা মেসেজ এলো, আপনি সেটার রিপ্লাই দিয়ে এসে খেতে বসে গেলেন।

আর এরই সাথে মোবাইল ফোন থেকে প্রায় ২০ থেকে ৩০ ভাগ ব্যাক্টেরিয়া ও ভাইরাস খাবারের সাথে আপনার দেহে প্রবেশ করলো। আপনি হয়ত সাথে সাথে অসুস্থ হবেন না, কিন্তু পরবর্তীতে যেকোন অসুস্থতার জন্য এই বিষয়গুলোই দায়ী থাকবে।

(৩) চোখের সমস্যা

যারা চোখের খুব কাছাকাছি দূরত্বে রেখে ফোন ব্যবহার করেন তারা ধীরে ধীরে মাথাব্যথা, চোখ ব্যথা, চোখে ঝাপসা দেখা-এরকম নানা রকম সমস্যায় আক্রান্ত হন। এজন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো ফোনের বিভিন্ন লেখার ফন্ট সাইজ বাড়িয়ে দেয়া, চোখ থেকে ন্যুনতম ১৬ ইঞ্চি দূরত্বে ফোন ব্যবহার করা। আর যদি বেশ দীর্ঘ কোন লেখা ফোনে পড়তে হয়, তবে কিছুক্ষণ পর পর ২০ সেকেন্ডের জন্য চোখকে বিশ্রাম দিন।

(৪) মানসিক চাপ

আমরা ফোন ব্যবহার করি যাতে সব সময় অন্যদের সাথে যোগাযোগ রাখা যায়। কিন্তু এটি একইসাথে আমাদের মানসিক প্রশান্তিও কেড়ে নেয়। কিভাবে? আমরা সব সময় আশা করতে থাকি এই বুঝি ফোনটি বেজে উঠবে কিংবা কেউ হয়তো মেসেজ দিবে।

সচেতনভাবে না হলেও আমাদের অবচেতন মন আমাদের সব মনোযোগ এই ক্ষুদ্র ফোনটির কাছে কেন্দ্রীভূত করে। এধরণের চিন্তার কারণে এক ধরণের মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়। প্রতিদিন এক ঘন্টার জন্য ফোনটি সুইচ অফ করে রাখুন। এটি আপনাকে মানসিক চাপ থেকে মুক্তি দিবে।

(৫) স্নায়বিক সমস্যা

মোবাইল ফোন থেকে নিঃসরিত তেজস্ক্রিয় রশ্মি ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে আমাদের ডি এন এ-কে। কোন কারণে মস্তিষ্কের কোষের ডি এন এ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা স্নায়ু সংক্রান্ত বিভিন্ন শারীরিক কাজের ক্ষতিসাধন করে।

মোবাইল ফোনের তেজস্ক্রিয়তা মস্তিষ্কে মেলাটনিনের পরিমাণ হ্রাস করে, যার ফলে বিভিন্ন স্নায়বিক সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়া এটি এখন বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত যে, মোবাইল ফোন থেকে নিঃসরিত তড়িত-চৌম্বকীয় তরঙ্গের কারণে অনিদ্রা, আলঝেইমার ও পারকিনসন’স ডিজিজের মত বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়।

(৬) হার্টের সমস্যা

গবেষণায় জানা গিয়েছে, মোবাইল ফোন থেকে সৃষ্ট তেজস্ক্রিয়তা মানুষের হার্টের স্বাভাবিক কর্মকান্ডকে ব্যহত করে। এর ফলে রক্তের লোহিত রক্তকণিকাতে থাকা হিমোগ্লোবিন আলাদা হয়ে যেতে থাকে।

এছাড়া হিমোগ্লোবিন রক্তের লোহিত কণিকার মাঝে তৈরি না হয়ে দেহের অন্যত্র তৈরি হতে থাকে, যেটি বিভিন্ন ধরণের শারীরিক সমস্যা তৈরি করে। যে কারণে বুক পকেটে ফোন রাখা একদমই অনুচিত। এছাড়া যারা হার্টে পেসমেকার বসিয়েছেন তাদের ক্ষেত্রেও মোবাইল ফোন ব্যবহারে যথেষ্ঠ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

(৭) শুক্রাণুর গুনগত মান ও পরিমাণ হ্রাস

এখনকার সময়ে ছেলেদের প্রায় সবাই নিজেদের প্যান্টের পকেটে মোবাইল ফোন রাখে। বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যেসব পুরুষ বা ছেলে খুব বেশি মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন তাদের শুক্রাণু খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া শুক্রাণুর ঘনত্ব হ্রাস পেতে থাকে। আমরা যখন ফোনে কথা বলার পর ফোন পকেটে রেখে দিই, তখন এটি কিছুটা উত্তপ্ত অবস্থায় থাকে। এর ফলে অন্ডকোষের চারপাশে তাপমাত্রা বেড়ে যায়।

অথচ শুক্রাণু দেহের ভেতরে মাত্র ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সক্রিয় থাকে। তাই অতিরিক্ত তাপমাত্রা শুক্রাণুর জন্য ক্ষতিকর। আবার আমাদের শরীর থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণে উপকারী তড়িৎ-চৌম্বকীয় তরংগ বের হয়, কিন্তু মোবাইল ফোনের উচ্চ মাত্রার তড়িৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গ আমাদের দেহের তড়িৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গের নিঃসরণকে বাধাগ্রস্ত করে। যার ফলে অস্বাভাবিক আকৃতির শুক্রাণু তৈরি হয়।

(৮) শ্রবণশক্তি হ্রাস পাওয়া

যারা দীর্ঘক্ষণ মোবাইল ফোনে কথা বলেন তাদের কানের বিভিন্ন সমস্যা যেমন-কানে কম শোনার ঝুঁকি অনেক বেশি। বর্তমানে যাদের বয়স ১৮ থেকে ২৫ বছর, তাদের মাঝে শ্রবণশক্তি হ্রাসের হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে।

চিকিৎসকদের মতে, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির ব্যপক ব্যবহার এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। যারা দৈনিক ২-৩ ঘন্টার চেয়ে বেশি ফোনে ব্যস্ত থাকেন তারা ৩ থেকে ৫ বছরের মাথায় আংশিকভাবে বধির হয়ে যান। তাই এটি রোধ করতে আপনার ফোনের রিং-টোন যতটুকু সম্ভব কমিয়ে রাখুন ও ফোনে খুব বেশি গান শোনা থেকে বিরত থাকুন।

(৯) মস্তিষ্কের ক্যান্সার

মোবাইল ফোন থেকে সৃষ্ট তেজষ্ক্রিয় রশ্মি আমাদের মস্তিষ্কের কোষগুলোকে ধীরে ধীরে মেরে ফেলতে পারে। মোবাইল ফোন থেকে সৃষ্ট বেতার তরঙ্গ আমাদের মস্তিষ্কের কোষগুলোকে উত্তপ্ত করে তোলে। আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই তরঙ্গকে কারসিনোজেনিক বা ক্যান্সার সৃষ্টিকারী বলে ঘোষণা দিয়েছে। অর্থাৎ মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার মস্তিষ্কের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

(১০) গর্ভাবস্থায় ঝুঁকি

গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যেসব নারীরা তাদের গর্ভাবস্থায় খুব বেশি মাত্রায় মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন, তাদের গর্ভস্থ ভ্রূণের মস্তিষ্কের বিকাশ ব্যহত হয়। এছাড়া পরবর্তীতে এই শিশুদের মাঝে আচরণগত অনেক সমস্যাও দেখা দেয়। তাই গর্ভাবস্থায় মায়েদের উচিত মোবাইল ফোন যতদূর সম্ভব এড়িয়ে চলা।

বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোনকে একেবারে জীবন থেকে সরিয়ে দেয়া সম্ভব নয়। কিন্তু একটু সচেতন হলেই আমরা মোবাইল ফোন ব্যবহারের ফলে তৈরি হওয়া স্বাস্থ্য ঝুঁকি থেকে নিজেদের বাঁচাতে পারি।

তথ্যসূত্র:BD24live

যেভাবে সিনেমা আবিষ্কার হলো

(একটি ১৬ মিমি স্প্রিং-অউন্ড বোলেক্স এইচ১৬ রিফ্লেক্স ক্যামেরা। চলচ্চিত্রের স্কুলগুলোতে প্রথমে এই ক্যামেরা দিয়ে পরিচয় করানো হয়।)

সিনেমা বা চলচিত্র মানুষের মনোরঞ্জনের এক সস্তা মাধ্যম।বিশ্বের প্রায় আড়াই লক্ষ প্রেক্ষাগৃহে প্রতিদিন প্রয় কোটি কোটি লোক আজ ছবি দেখে।চলচিত্রের বর্তমান অবস্থায় আসতে প্রায় একশ বছর লেগেছে।ক্যামেরা, আলোকচিত্র বিদ্যা এবং আলোক অভিক্ষেপণ যন্ত্রের বিকাশ সাধন চলচিত্রের উন্নতি সাধনে বিশেষভাবে সাহায্য করেছে।চলচিত্রের কাহিনি শুরু ১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে।মানুষ তখন ছবি খোদাইকৃত ঘূর্ণায়মান চাকা তৈরি করেছে।এ চাকাগুলোকে বলা হতো জীবনচক্র।এ চাকাগুলো এত জোরে ঘোরানো হতো যে খোদাইকৃত ছবিগুলো নরছে বলে মনে হতো।চলচিত্রের জন্ম প্রকৃতপক্ষে ১৮৯০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে।১৮৯৩ খ্রিষ্টাব্দে টমাস আলভা এডিসন কিনেটোস্কোপ নামে এক যন্ত্র আবিষ্কার করেন।এর এক ছিদ্র পথে একবারে একটা মাত্র লোক যন্ত্রের ভিতরের ছবি দেখতে পারতো।ছবিগুলো সাধারণত হতো ঘোড়া দৌড়ের অথবা বাচ্চাদের সাঁতার কাটার।দ্য গ্রেট ট্মেন রবারি নামে পৃথিবীর প্রথম ছায়াছবি তৈরি হয় ১৯০৩ খ্রিষ্টাব্দে টমাস আলভা এডিসনের গবেষণাগারে।ঘটনাটি ছিল দারুণ রোমাঞ্চকর।প্রথম ছায়াছবি ১৯১৫ খ্রিষ্টাব্দে আমেরিকার পিটাসবার্গ শহরে দেখানো হয়।এর কিছুদিন পরে টমাস আরামাথ নামক এক ব্যক্তি চলচিত্রের সার্বজনীন প্রদশর্নীর জন্যএক আলো অভিক্ষেপক যন্ত্র তৈরি করেন।এডিসনও এ যন্ত্রের অনেক উন্নতি সাধন করেন।তখনকার দিনে যে চলচিত্র তৈরি হতো তা হতো নির্বাক।আলো অভিক্ষেপক যন্ত্র প্রতি সেকেন্ডে ২৪টি চিত্রকে পর্দায় নিয়ে আসত।এ ছবিগুলো একের পর এক দ্রুতগতিতে হাজির হতো আর তার ফলে ছবিগুলো নরছে বলে মনে হতো।সেলুলোজ ফিল্মের ওপর এ ছবিগুলো প্রথম তোলা হতো।তারপর সময় যত পার হয়ে চললো সিনেমা শিল্পেও তত উন্নতি হতে লাগলো।১৯২০ খ্রিষ্টাব্দে আমেরিকায় প্রথম সুরেলা ছায়াছবি ডন জুয়ান তৈরি হয়।প্রথম সবাক চিত্র দ্য জাজ সিঙ্গার রি করেন ওয়ারনার ভ্রাতৃবর্গ ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে আমেরিকাতে।দাদা সাহেব ফাল্কে ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম ভারতীয় ছায়াছবি রাজা হরিশচন্দ্র তৈরি করেন।রঙিন ছায়াছবির আর্বিরভাব চলচিত্র শিল্পের ইতিহাসেআর এক নতুন পদক্ষেপ।চলচিত্র দেখার সবচেয়ে বেশি আগ্রহ তাইওয়ানবাসীদের।রাশিয়াতে প্রায় দেড় লাখ প্রেক্ষাগৃহ আছে।পৃথিবীর সব থেকে বড় ও উন্মুক্ত প্রেক্ষাগৃহ হলো পশ্চিম বার্লিনে।এ প্রেক্ষাগৃহে ২২ হাজার লোক এক সঙ্গে বসে ছবি দেখতে পারে।পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘতম ছবি দ্যহিউম্যান কনডিশন ১৯৬১ খ্রিষ্টাব্দের অক্টোবর মাসে জাপানে দেখানো হয়।এ ছায়াছবির একটি শেষ হতে সময় লেগেছিল ৮ ঘন্টা ৫০ মিনিট। বাংলাদেশের প্রথম সবাক চলচিত্রের নাম মুখ ও মুখোশ।


চলচ্চিত্র এক প্রকারের দৃশ্যমান বিনোদন মাধ্যম। চলমান চিত্র তথা "মোশন পিকচার" থেকে চলচ্চিত্র শব্দটি এসেছে। এটি একটি বিশেষ শিল্প মাধ্যম। বাস্তব জগতের চলমান ছবি ক্যামেরার মাধ্যমে ধারণ করে বা এনিমেশনের মাধ্যমে কাল্পনিক জগৎ তৈরি করে চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়। চলচ্চিত্রের ধারণা অনেক পরে এসেছে, উনবিংশ শতকের শেষ দিকে। আর এনিমেশন চিত্রের ধারণা এসেছে আরও পরে। বাংলায় চলচ্চিত্রের প্রতিশব্দ হিসেবে ছায়াছবি, সিনেমা, মুভি বা ফিল্ম শব্দগুলো ব্যবহৃত হয়।

চলচ্চিত্রের সাথে ওতোপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে সাংস্কৃতিক উপাদানসমূহ। যে সংস্কৃতিতে তা নির্মিত হয় তাকেই প্রতিনিধিত্ব করে চলচ্চিত্রটি। শিল্পকলার প্রভাবশালী মাধ্যম, শক্তিশালী বিনোদন মাধ্যম এবং শিক্ষার অন্যতম সেরা উপকরণ হিসেবে খ্যাতি রয়েছে চলচ্চিত্রের। ছায়াছবির সাথে ভিজ্যুয়াল বিশ্বের সমন্বয় থাকায় সাধারণ মানুষের সাথে সবচেয়ে ভাল যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে। অন্য কোন শিল্পমাধ্যম সাধারণের সাথে এতোটা যোগাযোগ স্থাপনে সক্ষম নয়। অন্য ভাষার চলচ্চিত্রের ডাবিং বা সাবটাইটেল করার মাধ্যমে নিজ ভাষায় নিয়ে আসার প্রচলন রয়েছে।

প্রথাগতভাবে চলচ্চিত্র নির্মিত হয় অনেকগুলো একক ছবি তথা ফ্রেমের ধারাবাহিক সমন্বয়ের মাধ্যমে। এই স্থিরচিত্রগুলি যখন খুব দ্রুত দেখানো হয় তখন দর্শক মনে করেন তিনি চলমান কিছু দেখছেন। প্রতিটি ছবির মাঝে যে বিরতি তা একটি বিশেষ কারণে দর্শকের চোখে ধরা পড়ে না। ধরা না পড়ার এই বিষয়টাকে দৃষ্টির স্থায়িত্ব বলে। সহজ কথা বলা যায়, ছবির উৎস সরিয়ে ফেলার পরও এক সেকেন্ডের ১০ ভাগের ১ ভাগ সময় ধরে দর্শকের মনে তার রেশ থেকে যায়। এভাবে চলমান ছবির ধারণা লাভের বিষয়টাকে মনোবিজ্ঞানে বিটা চলন নামে আখ্যায়িত করা হয়।


কৃত্রিমভাবে দ্বিমাত্রিক চলমান ছবি তৈরির কৌশল আবিষ্কৃত হয়েছিল ১৮৬০-এর দশকে। তখন জোট্রোপ এবং প্র্যাক্সিনোস্কোপ নামক যন্ত্র দিয়ে এ ধরণের ছবি তৈরি করা যেতো। একেবারে সাধারণ আলোক যন্ত্রের (ম্যাজিক লণ্ঠন) উন্নতি সাধন করে এগুলো তৈরি করা হয়েছিল। এগুলোর মাধ্যমে ধারাবাহিক কতগুলো স্থিরচিত্র একটার পর একটা এতো দ্রুত পরিবর্তন করা যেতো যে দর্শকের চোখে পরিবর্তন খুব একটা ধরা পড়তো না। ছবিগুলোকে খুব যত্ন সহকারে ডিজাইন করতে হতো যাতে কোন খুঁত না থাকে। এই ধারণাটিই পরবর্তীতে এনিমেশন চিত্র নির্মাণের মূলনীতি হয়ে দেখা দিয়েছিলো।

স্থির চিত্রগ্রহণে সেলুলয়েড ফিল্ম আসার পর চলমান বস্তুর সরাসরি ছবি তোলা সম্ভব হলো। প্রাথমিক যুগে একটি ড্রামের মধ্যে বেশ কিছু ছবি লাগিয়ে ড্রামটিকে জোড়ে ঘুরানো হতো। একটা বিশেষ দিক থেকে দর্শক ড্রামের দিকে তাকালে চলমান চিত্র দেখতে পেতো। ড্রামের গতি ছিল সাধারণত সেকেন্ডে ৫ বা ১০ বার এবং ড্রামগুলো কয়েনের মাধ্যমে অর্থ আদায় করতো। ১৮৮০'র দশকে চলচ্চিত্র ক্যামেরা উদ্ভাবিত হয়। এর মাধ্যমে অনেকগুলো স্থিরচিত্রকে একটি মাত্র রিলে সংরক্ষণ করা যেতো। এই রিলগুলোকে পরবর্তীতে চলচ্চিত্র রূপে দেখানো হতো প্রজেক্টরের মাধ্যমে। প্রজেক্টরের আলো রিলের উপর ফেলা হতো এবং রিলের ছবিগুলোকে বিবর্ধিত করে একটি বড় পর্দার উপর ফেলা হতো যা দর্শকরা দেখতে পেতো। প্রথম দিককার চলচ্চিত্রগুলো সবই ছিল বাস্তব ঘটনার সরাসরি দৃশ্যায়ন এবং প্রদর্শন। সেখানে কোন সম্পাদনা বা চলচ্চিত্ররূপী উপস্থাপনার সুযোগ ছিল না।

১৮৯৪ সালের দিকেই ডিকসন শব্দ এবং ছবি একসাথে ধারণের পরীক্ষা শুরু করেছিলেন। কিন্তু তার সে প্রচেষ্টাকে এড়িয়ে গিয়ে নির্বাক চলচ্চিত্র প্রাধান্য বিস্তার করে এবং জনমনে বিশেষ ছাপ ফেলতে সক্ষম হয়। উনবিংশ শতকের শেষ পর্যন্ত নির্বাক চলচ্চিত্রই ছিল একমাত্র চলমান শিল্প মাধ্যম। বিংশ শতকের শুরুতে চলচ্চিত্র বর্ণনামূলক ধারায় রূপ নিতে শুরু করে। অনেকগুলো দৃশ্যকে একসাথে জোড়া লাগিয়ে এবং প্রত্যেকটির জন্য বর্ণনাভঙ্গি নির্দিষ্ট করে, প্রচার করা হতে থাকে। ধীরে ধীরে দৃশ্যগুলোকে বিভিন্ন আক্র এবং কোণ থেকে নেয়া অনেকগুলো শটে ভাগ করা হয়। এছাড়া চলমান ক্যামেরার মাধ্যমে চলচ্চিত্র গল্প ফুটিয়ে তোলার কৌশল আবিষ্কৃত হয়। তখনও ছবি নির্বাক ছিল। কিন্তু, প্রতিটি শটের সাথে মিল রেখে সঙ্গীত এবং বাজনা বাজানোর জন্য সিনেমা হলে বা মঞ্চে অর্কেস্ট্রা দল থাকতো। বড় বড় প্রযোজনা কোম্পানিগুলো এসবের ব্যবস্থা করতো।


হলিউডের উত্থানের মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলচ্চিত্র বিকশিত হয়ে উঠলেও প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণে ইউরোপে এই শিল্পটি ততোটা বিকশিত হয়ে উঠতে পারেনি। অবশ্য ১৯২০-এর দশক থেকে সের্গে আইজেনস্টাইন, এফ ডব্লিউ মার্নো এবং ফ্রিৎস ল্যাং এর মতো ইউরোপীয় পরিচালকরা ডি ডব্লিউ গ্রিফিথ, চার্লি চ্যাপলিন, বুস্টার কিটন প্রমুখ মার্কিন পরিচালক ও অভিনেতাদের সাথে মিলে ইউরোপে চলচ্চিত্র বিস্তারের কাজ শুরু করেন। এই দশকেই প্রযুক্তির উন্নয়নের কারণে চলচ্চিত্রের শটগুলোর সাথে ঐকতান বজায় রেখে শব্দ, সঙ্গীত এবং কথোপকথন যুক্ত করা সম্ভব হয়। উদ্ভব হয় সবাক চলচ্চিত্রের। ইংরেজতে এগুলোকে "টকিং পিকচার" বা সংক্ষেপে "টকি" (talky) বলা হতো।

এর পরে চলচ্চিত্র শিল্পে সবচেয়ে বড় সংযোজন ছিল "প্রাকৃতিক রঙ" যুক্ত করা। শব্দ যুক্ত করার পর খুব দ্রুত নির্বাক চলচ্চিত্র এবং মঞ্চের বাদ্য-বাজনা বিলীন হয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু সাদাকালোর বদলে চলচ্চিত্র রঙের ব্যবহার করার প্রচলন অনেক ধীরে ধীরে হয়েছে। এর মূল কারণ ছিল রঙিন চলচ্চিত্রের খরচ এবং সামঞ্জস্য। প্রথমদিকে সাদা-কালো এবং রঙিন চলচ্চিত্রের প্রতি দর্শকদের দৃষ্টিভঙ্গি একই রকম ছিল। কিন্তু ক্রমাগত বেশী বেশী রঙিন চলচ্চিত্র নির্মিত হতে থাকে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আমেরিকায় রঙিন চলচ্চিত্রই প্রাধান্য বিস্তার করে। কারণ প্রযোজকরা বুঝতে পারছিলেন, রঙিনের দিকে দর্শকদের ঝোঁক বেশী। আরও একটি কারণ ছিল, টেলিভিশন ১৯৬০-এর দশকের আগে রঙিন হয়নি। তাই টিভির সাদাকালোকে হারানোর জন্য চলচ্চিত্র রঙের সংযোজন আবশ্যক ছিল। ১৯৬০-এর দশকের পরে রঙিন চলচ্চিত্রই নির্মাতাদের মূল আকর্ষণ হয়ে উঠে।

১৯৬০ এর দশকে স্টুডিও পদ্ধতির পতনের পর কয়েক দশক জুড়ে চলচ্চিত্র জগতে ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। বিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগে চলচ্চিত্র শিক্ষা গুরুত্ব অর্জন করে। নব হলিউড, ফরাসি নবতরঙ্গ এবং বিভিন্ন চলচ্চিত্র স্কুলের প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এটি ত্বরান্বিত হয়। আর ১৯৯০-এর দশকের পর ডিজিটাল প্রযুক্তি চলচ্চিত্র নির্মাণের একমাত্র মাধ্যম হয়ে উঠে।

তথ্যসূত্র : Wikipedia এবং Techtunes


শনিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৫

কীভাবে এলো জাকারবার্গের ফেসবুক?


হার্ভার্ডের ডরমেটরিতে নিজের রুমে বসে ফেসবুক চালু করেন
জাকারবার্গ।
প্রযুক্তিপ্রিয় মানুষ কিন্তু ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট নেই, এমন আর
কাউকে এখন খুঁজে পাওয়া মুশকিল। শুরুতে কিন্তু এতকিছু
ভাবেননি এর প্রতিষ্ঠাতা জাকারবার্গ। হার্ভার্ড
ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র ছিলেন
জাকারবার্গ। ছোটবেলা থেকেই কম্পিউটার নিয়ে
জাকারবার্গের ছিল সীমাহীন আগ্রহ।
হার্ভার্ডে সুযোগ পাওয়ার পর জাকারবার্গের সারাক্ষণই
কাটত কম্পিউটার নিয়ে। এই সময় তিনি বন্ধুদের চমকে দেওয়ার
জন্য বেশকিছু সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট তৈরি করেন।
প্রথম তিনি তৈরি করেন ‘কোর্সম্যাচ’ নামের একটি সাইট। এই
সাইটে ব্যবহারকারীরা সবাই কে কোথা থেকে ডিগ্রি
নিয়েছেন সেটা দেখতে পেতেন।এরপর জাকারবার্গ ‘ফেস ম্যাশ’ নামে আরেকটি নেটওয়ার্কিং
সাইট করেন। সেখানে ব্যবহারকারীরা ছবি দেখে কে কতটা
আকর্ষণীয় সে অনুযায়ী রেটিং দিতেন। অনেকটা খেলাচ্ছলেই
এসব সাইট তৈরি করেছিলেন জাকারবার্গ।
তবে এই দুই সাইটের জনপ্রিয়তার পর ফেসবুক তৈরির কাজে হাত
দেন তিনি। মাত্র ২৩ বছর বয়সে ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে
ফেসবুক তৈরি করেন জাকারবার্গ। তখন সাইটের নাম রাখা
হয়েছিল দ্য ফেসবুক ডটকম।
ভর্তি হওয়ার পর হার্ভার্ডের নতুন শিক্ষার্থীদের একটা কাগজ
পূরণ করতে হতো, যেখানে তাঁদের বিস্তারিত পরিচয় লেখা
থাকত। সেই কাগজ পরিচিত ছিল ‘ফেসবুক’ নামে। আর সেখান
থেকেই নিজের ওয়েবসাইটের নাম রাখেন জাকারবার্গ।
হার্ভার্ডের ডরমিটরিতে বসেই ফেসবুক চালু করেন
জাকারবার্গ। তবে তিনি একা নন। ফেসবুক চালুর সময়
জাকারবার্গের সঙ্গে কাজ করেন তাঁর সহপাঠী এবং রুমমেট
এডওয়ার্ড সাভেরিন, অ্যান্ড্রু ম্যাককলাম, ডাস্টিন
মস্কোভিৎজ ও ক্রিস হগস। শুধু হার্ভার্ডের শিক্ষার্থীদের
জন্যই সাইটটি তৈরি করেছিলেন তাঁরা।
সাইট চালুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হার্ভার্ডের এক হাজার ২০০ জন
শিক্ষার্থী সাইন আপ করেছিলেন ফেসবুকে। আর এক মাস পর
হার্ভার্ডের অর্ধেক শিক্ষার্থীই ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট
খোলেন। এভাবে দ্রুত হার্ভার্ড ক্যাম্পাসে জনপ্রিয়তা লাভ
করে ফেসবুক।
হার্ভার্ডের পর ফেসবুক চালু হয় বোস্টনের অন্যান্য
বিশ্ববিদ্যালয়ে। এভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ফেসবুকে সাইন আপ করা শুরু
করেন। ২০০৫ সালের আগস্টে ফেসবুক ডটকম নামের ডোমেইন
সার্ভারটি দুই লাখ ডলারে কিনে নেন জাকারবার্গ। এরপর
ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন
স্কুলে ক্যাম্পেইন শুরু করেন তাঁরা। যুক্তরাষ্ট্রের পরপরই
যুক্তরাজ্যে যাত্রা শুরু করে ফেসবুক।
প্রথমদিকে শুধু শিক্ষার্থীরা ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট খুললেও এর
পর থেকে সব বয়সীরাই ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট খুলতে শুরু করেন।
তখন থেকেই ফেসবুকের তুমুল জনপ্রিয়তা টের পাওয়া যায়।
কারণ সাইটটি বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারেন
ব্যবহারকারীরা এবং খুব সহজেই একটি ইমেইল অ্যাকাউন্টের
মাধ্যমেই ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট খোলা যায়।
২০০৪ সালে জাকারবার্গের বিরুদ্ধে আইডিয়া এবং কোডিং
চুরির আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনেন দিব্য নরেন্দ্র, ব্রাদার্স
ক্যামেরন এবং টেইলর উইংকলভস। তাঁরা ‘কানেক্টইউ’ নামের
একটি সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট তৈরি করেছিলেন।
তাঁরা অভিযোগ করেন, তাঁদের সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট
তৈরির সময় কম্পিউটার প্রোগ্রামার হিসেবে কাজ
করেছিলেন জাকারবার্গ এবং সেই সাইটের কোডিং ও
আইডিয়া চুরি করে ফেসবুক তৈরি করেছেন জাকারবার্গ। তবে
কোনো রায় না দিয়েই সেই মামলার ২০০৭ সালে খারিজ করে
দেওয়া হয়।
যদিও সেই সময়ে বিজ্ঞাপন দিয়ে আয় করছিল ফেসবুক। গুজব
রয়েছে ২০০৭ সালের দিকে ইয়াহু এবং গুগল কিনে নিতে
চেয়েছিল ফেসবুক। সে সময় তারা দুই হাজার কোটি ডলার
পর্যন্ত সেধেছিল কিন্তু জাকারবার্গ ফেসবুক বেঁচতে রাজি
হননি।
২০০৭ সালে ফেসবুক ঘোষণা করে বিশ্বজুড়ে তিন কোটি মানুষ
ফেসবুক ব্যবহার করছেন। এর পর থেকে ফেসবুকের
ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

পোষ্ট টি লিখেছেন : Kafihasan

কম্পিউটার চালু হতে দেরি হলে করণীয়


কম্পিউটার চালু হওয়ার সময় কিছু প্রোগ্রাম (স্টার্টআপ) এবং দরকারি-অদরকারি অনেক ফাইলও চালু হতে থাকে। এ কারণে কম্পিউটার চালু হতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় নেয়। কম্পিউটার যাতে দ্রুত চালু করা যায়, সে জন্য উইন্ডোজ ১০ অপারেটিং সিস্টেমে ‘ফাস্ট স্টার্টআপ’ নামে নতুন সুবিধা যোগ করা হয়েছে। এটি সক্রিয় করলে কম্পিউটার চালু হতে সময় কম লাগবে। এ জন্য দুটি পদ্ধতি রয়েছে।
ফাস্ট স্টার্টআপ চালু
উইন্ডোজ ১০-এর স্টার্ট মেনু থেকে Settings-এ ক্লিক করুন। সেটিংস এলে ওপরে ডান দিকের ঘরে Power Options লিখে এন্টার করুন। পাওয়ার অপশন এলে সেটির ডান পাশের তালিকা থেকে Choose what the power buttons do লিঙ্কে ক্লিক করুন। এবার Define Power Buttons and Turn on Password Protection-এর নিচে Change settings that are currently unavailable-এ ক্লিক করুন। এতে নিচের লুকানো অপশনগুলো খুলবে। এবার Shutdown Settings-এর Fast Startup for Windows 10-এর পাশে টিক চিহ্ন ঠিক রেখে বাকি Hibernate, Sleep-এর টিক চিহ্ন তুলে দিন। Save changes চেপে বের হয়ে আসুন। এবার কম্পিউটার আবার চালু (রিস্টার্ট) করে নিয়ে পার্থক্যটা দেখুন।
স্টার্টআপ ম্যানেজার সম্পাদনা: স্টার্টআপ ম্যানেজারে প্রয়োজনীয় প্রোগ্রাম রেখে বাকি প্রোগ্রামগুলো নিষ্ক্রিয় করতে উইন্ডোজের টাস্কবারে রাইট ক্লিক করে Task Manager খুলুন। টাস্ক ম্যানেজারের Startup ট্যাবে ক্লিক করুন। এখানে অনেক প্রোগ্রাম দেখতে পাবেন, যেগুলো কম্পিউটার চালু হওয়ার সময় চালু হতে থাকে। Startup Impact কলামে কোন প্রোগ্রাম কত মেমোরি ব্যবহার করছে, তা দেখা যাবে। এবার High বা Low ভিত্তিতে এবং কাজের ধরন অনুযায়ী প্রোগ্রাম নিষ্ক্রিয় (ডিজেবল) করতে হবে। যে প্রোগ্রাম মনে হবে দরকার নেই, তাতে রাইট ক্লিক করে Disable করুন। এভাবে উচ্চ ও নিম্ন অবস্থা দেখে নিয়ে প্রোগ্রামগুলো নিষ্ক্রিয় করলে কম্পিউটার চালু হতে সময় কম লাগবে।

মোবাইল ফোন ‘হ্যাং’ করলে যা করবেন

মোবাইল ফোনের ওপর মানুষের নির্ভরতা এতটাই বেড়েছে যে, এখন এই যন্ত্র ছাড়া কেউ এক দিন পার করার চিন্তাও করতে পারেন না। মোবাইল ফোন যদি কিছুক্ষণ ঠিকমতো কাজ না করে, এতে অনেকে অধৈর্য হয়ে পড়েন। মোবাইল ফোন একটানা ব্যবহার করতে করতে কখনো তা ‘হ্যাং’ বা অচল হয়ে যেতে পারে। সাধারণত বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন, গেম ও ভিডিও মেমোরি ফোনের অনেক জায়গা দখল করে নিলে মোবাইল ফোন ‘হ্যাং’ হতে শুরু করে।
গুগলের নতুন অ্যান্ড্রয়েড সফটওয়্যার মার্সম্যালোচালিত ফোন ব্যবহারকারীরা সহজেই তাঁদের অ্যান্ড্রয়েড ফোনের মেমোরি ও র্যামে কতখানি জায়গা খালি আছে তা দেখে নিতে পারেন। ফোন যদি হ্যাং করে তবে তা দূর করার জন্য যা করতে পারেন:
১. ফোনের সেটিং অপশনে যান এবং সেখান থেকে মেমোরি কতখানি আছে তা দেখে নিতে পারেন। ভিডিও, ছবি ও অ্যাপ কতখানি মেমোরি দখল করেছে তা পরীক্ষা করে দেখুন।
২. অ্যাপ অপশন থেকে মেমোরি ব্যবহারের অপশনটি নির্বাচন করুন। ফোন বা এসডি কার্ডে অ্যাপস ঠিক কতখানি জায়গা নিয়েছে তার বিস্তারিত জানা যাবে।
৩. কোনো অ্যাপ যদি অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে, তা আনইনস্টল করে দিতে পারেন। এ ছাড়া অপ্রয়োজনীয় ছবি বা ভিডিও মুছে মেমোরি ফাঁকা করে দিলে ফোনের ‘হ্যাং’ সমস্যা দূর হবে।

তথ্যসূত্র :প্রথম আলো

এসকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা ছাড়াও আপনার এন্ড্রয়েড ফোনে360 Security,Clean Master ইত্যাদি এপস ব্যবহার করতে পারেন যাতে আপনার ফোনে জমে থাকা অপ্রয়োজনীয় ফাইল গুলো ডিলিট করতে পারেন খুব সহজেই।

নিরাপত্তার ক্ষেত্রে স্মার্ট ডোরবেল কিভাবে মোবাইল এর মাধ্যমে কাজ করে বিস্তারিত জেনে নিন


আমরা অনেকেই আমাদের বাড়ি ঘরের নিরাপত্তার জন্য অনেক ধরনের সিকিউরিটি প্রোডাক্ট ব্যবহার করে থাকি। এই যেমন ইলেক্ট্রিক লক,সিসিটিভি সিস্টেম,মোশন ডিটেক্টর ইত্যাদি আরও অনেক প্রকার প্রোডাক্ট। কিন্তু আমি আজকে জানাবো এমন একটা প্রোডাক্ট যা আপনার পছন্দ হতে বাধ্য।

এই প্রোডাক্ট এর নামঃ ওয়াইফাই ডোরবেল ফোন।



মনে করুন আপনি একটা জরুরি কাজে বাইরে বের হয়ে গেলেন এবং ঠিক ওইসময় আপনার বাসায় কেউ আসার কথা। কি করবেন আপনি ??

এই ডোরবেলের সামনে গেলে ঠিক তখনি আপনার স্মার্টফোনে একটি পুশ নোটিফিকেশান এর মাধ্যমে যিনি আসবেন উনার সাথে সাথে আপনি ভিডিও চ্যাট করতে পারবেন বা উনার চেহারা দেখে কথা বলতে পারবেন এই অসাধারণ ওয়াইফাই ভিডিও ডোরবেল দিয়ে।

চলুন দেখে নেই আর কি কি ফিচার রয়েছেঃ

বড় কালার ডিসপ্লেঃ এই ওয়াইফাই ডোরবেল ফোনের রয়েছে দুই ধরনের টিএফটি কালার ডিসপ্লে। একটা  ৪ ইঞ্চির টিএফটি কালার ডিসপ্লে এবং আরেকটা ৭ ইঞ্চির টিএফটি কালার ডিসপ্লে। আপনার বাজেটের উপর নির্ভর করে ইচ্ছেমত আপনি একটা পছন্দ করতে পারেন।

আইআর ক্যামেরাঃ আইআর ক্যামেরা বলতে আমরা বুঝি ইনফ্রারেড ক্যামেরা যা কিছু এল ই ডি এর মাধ্যমে আপনাকে সাদাকালো দেখাবে। আপনি এই ডিভাইস দিয়ে শুধু দিনের বেলায় ভিডিও চ্যাটই করতে পারবেন না। রাতের বেলায় বা অন্ধকারে এটি আপনাকে সাদাকালো ছবি বা ভিডিও দেখাতে সক্ষম। আর ২ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা আপনাকে দিবে এইচডি ভিডিও এবং যা প্রায় ৭২০পি এর মত রেজুলেশন। আর মোবাইল এপ দিয়ে আপনি ছবি বা ভিডিও রেকর্ড করে রাখতে পারবেন।

বিল্ট ইন স্পিকার মাইক্রোফোনঃ এই ডোরবেল সিস্টেম এর মাঝে রয়েছে ১.২ ওয়াট এর বিল্ট ইন স্পিকার এবং মাইক্রোফোন যার মাধ্যমে আপনি সরাসরি  ভিজিটর এর সাথে কথা বলতে এবং শুনতে পারবেন।

মোশন ডিটেক্টরঃ এতে পিআইআর মোশন ডিটেক্টর থাকার কেউ যদি আপনার দরজা ভাঙ্গার চেস্টা করে বা দরজার সামনে দিয়ে চলাচল করে তবে আপনি নোটিফিকেশন পাবেন আপনার মোবাইলে।

কানেকটিভিটিঃ আপনি ইচ্ছা করলে আপনার রাউটার এর সাথে একে সংযুক্ত করতে পারেন। যার ফলে আপনি ইন্টারনেট এর মাধ্যমে দুনিয়ার যে কোন প্রান্তে বসেই আপনার দরজার সকল কন্ট্রোল করতে পারবেন।

অপারেটিং সিস্টেমঃ এটা এনড্রয়েড এবং আইওএস সাপোর্ট করে। যার ফলে আপনি আপনার মোবাইল থেকেও সকল সুবিধা আদায় করে নিতে পারবেন।

ইলেকট্রিক লক সুবিধাঃ আপনি ইচ্ছা করলেই এই ডিভাইস এর সাথে একটি স্টিল বডির বা সিআরসি বডির ইলেকট্রো ম্যাগনেটিক লক লাগিয়ে নিতে পারেন যা খুব সহজেই কেউ ভাঙতে পারবেনা।এর ফলে আপনি মোবাইল এপ এর মাধ্যমেই বাইরে থেকে দরজার লক খুলতে পারবেন। (মোবাইলে ইন্টারনেট থাকা বাঞ্ছনীয়)

মেটাল বডিঃ এই ওয়াইফাই ডোরবেল ফোন তৈরি করা হয়েছে মেটাল দিয়ে। তাই ইচ্ছে করলেই অনেকে এটা ভাংতে পারবেনা। আবার ভাঙতে গেলেও তো আপনার কাছে নোটিফিকেশান চলে আসবে মোবাইলে। তখন আপনি একটা পদক্ষেপ নিতে পারবেন।

পাওয়ার সাপ্লাইঃ এতে রয়েছে এসএমপিএস পাওয়ার সাপ্লাই, যার ফলে বিদ্যুৎ ব্যবহার নিয়ে খুব বেশি ঝামেলা পোহাতে হবে না।

কোথায় কোথায় ব্যবহার করতে পারেনঃ আপনি এটা আপনার মেইন দরজার সামনে ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া ওয়্যারহাউজ,অফিসের গেটে,বেবি কেয়ার সেন্টারে সহ আরো নানান জায়গায় ব্যবহার করতে পারেন। মুলত এটা নির্ভর করবে আপনার কোন জায়গায় সেট করলে আপনার চাহিদা মিটে সেটার উপর। তবে খেয়াল রাখতে হবে এটা আউটডোরে ব্যবহার করার জন্য না। মানে রোদ বা বৃষ্টিতে ভেজানো যাবে না। শুধুমাত্র ইনডোরে ব্যবহার করলেই ভালো হবে।

পোষ্ট টি লিখেছেন:মোঃ শহিদুল ইসলাম,CEO at projuktishop.com