সবাই অনেক কিছু
চাইলো, কিন্তু কে কাহাকে পাইলো? আদৌ তারা যা চাইলো, তাহাও কি তা পাইতে পারিলো ? কেউ
কেউ কিছু জিনিস পাইলো বটে, তবে কিছু মানুষ মনের মানুষ হইতে চাইয়াও হইতে পারলো না ।
কান্নায় শোক
মন্দীভূত হয়, অথবা সময়ের সাথে সাথে ভেতরে থাকা কষ্ট টাও কমে যায়। কিন্তু সকল ক্ষেত্রে
শেষ গল্প টা একরকম হয় না। কিছু কষ্ট ঘটনার সাথে সাথে অনুভব করা যায় না, সময়ের সাথে
সাথে কষ্টের পরিমাণ টা বাড়তে থাকে।
শহরের এক সাধারণ
ছেলে শারীরিক কিছু জটিলতার দরুণ গ্রামে গিয়ে তার পরিবারের সাথে ছিলো কিছু মাস, যাতে
সে একটু খাবার এবং যত্ন পাইতে পারে। সময়ের সাথে সাথে সে কিছু টা সুস্থ হয়, পুরোপুরি
না। এমন সময় তার প্রেমিকার জন্মদিন ঘনিয়ে আসে। তাই সে প্রেমিকার সাথে দেখা করার জন্য
একদিন আগে শহরে চলে আসে। কিন্তু বাসায় ঢোকার আগ মুহুর্তে রাস্তা পার হবার সময় একটা
গাড়ি এসে ধাক্কা দেয় তাকে। তেমন কিছু হয়না সেই ধাক্কায়। সে ৩ টি লাল গোলাপ কিনে বাসায়
ঢুকে পড়ে। শরীরে সামান্য ব্যথা থাকলেও তার
মনে অনেক শান্তি ছিলো। সে ভাবতে থাকলো, তার প্রেমিকা তাকে এত মাস পরে সামনাসামনি দেখতে
পেয়ে কতটা খুশি হবে। সে ভুলে ই গেলো, মানুষ যা আশা করে, খুব ই কম ক্ষেত্রে ই তা ঘটে।
একটা সময় রাত হলো এবং সেই ছেলের অপেক্ষা শেষ হলো। সময়মতো সামান্য একটি ছবি দিয়ে সে
তার প্রেমিকা কে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালো। অতঃপর প্রেমিকাকে তাহার প্রাক্তন কত ভালোভাবে
শুভেচ্ছা জানালো, কোন অপরিচিত ছেলে, সেই ছেলের চেয়ে ভালোভাবে শুভেচ্ছা জানালো সেই গল্প
শুনতে শুনতে ছেলের রাত পার হলো।
পরের দিন যখন
ছেলে বহু মাস পর তার প্রেমিকার সাথে শুধু মাত্র তিনটি লাল গোলাপ আর এক কেক নিয়ে দেখা
করতে গেলো, তখন সে প্রেমিকার কাছে ভালোবাসা
পাবার আশা নিয়ে গেলো। কিন্তু সে তার প্রেমিকার কাছে যা পেলো তা, অভিযোগ, অপমান, তাচ্ছিল্য
আর তুলনার চেয়ে বেশি কিছু ছিলো না। ছেলের ভালোবাসার অভাব কিছু ছিলো না তার প্রেমিকার
প্রতি। তবে অভাব ছিলো মোমবাতি, গিফট এবং চাহিদা পূরণ করার। খাওয়া দাওয়া হলো, কেক কাটা
হলো কিন্তু শেষ অবধি কেউ খুশি হতে পারলো না। না ওই ছেলে , না তার প্রেমিকা। প্রেমিকা
সেই ছেলের উপস্থিতি অথবা অনুপস্থিতি নিয়ে কিছুমাত্র চিন্তিত ছিলো না। দিনশেষে ছেলে
টা যেখান থেকে এসেছিলো, পুনরায় সেখানে ফেরত চলে গেলো।
